যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে এক নারী রোগীকে গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং একাধিকবার অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।অভিযুক্ত কর্মচারীর নাম আলমগীর হোসেন। তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগের ১২২/১৩৩ নম্বর কক্ষের সামনে থাকা হেল্প ডেস্কে দায়িত্ব পালন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।লিখিত অভিযোগে ওই নারী জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হাসপাতালে আসার সময় আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
পরবর্তীতে হাসপাতালে এলে টিকিট কেটে দেওয়া, চিকিৎসক দেখানো ও ওষুধ সংগ্রহে সহযোগিতা করায় তাদের মধ্যে পরিচিতি ও সুসম্পর্ক তৈরি হয়।অভিযোগ অনুযায়ী, একদিন ওষুধের প্রয়োজন হলে আলমগীর ওই নারীকে জানান, প্রয়োজনীয় ওষুধ তার বাসায় রয়েছে।
পরে তাকে মোটরসাইকেলে করে যশোর শহরের বারান্দীপাড়ায় নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়ার পাশাপাশি গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।তার দাবি, পরবর্তীতে ওই ভিডিও দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয় এবং ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়।
ওই নারী আরও অভিযোগ করেন হাসপাতালের বহির্বিভাগের দন্ত বিভাগের ১১৯ নম্বর কক্ষেও তাকে একাধিকবার অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়েছে।ভিডিওগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ করা হলেও অভিযুক্ত তা করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।ভুক্তভোগী ওই নারী আরও জানান, তার নাতি-নাতনি রয়েছে এবং প্রায় তিন বছর ধরে তিনি এ পরিস্থিতির শিকার হয়ে আসছেন।
পরে কৌশলে আলমগীরের মোবাইল ফোন থেকে একটি ভিডিও সংগ্রহ করেন বলে দাবি করেন তিনি।সামনে আসা একটি ভিডিওতে আলমগীর হোসেন ও ওই নারীকে হাত ধরাধরি করে একটি কক্ষে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ভিডিওতে আলমগীরকে একটি স্থানে মোবাইল ফোন সেট করতেও দেখা যায়। তবে ভিডিওটির প্রেক্ষাপট এবং অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।এদিকে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন সাংবাদিকের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।অভিযোগের বিষয়ে আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি অন্যায় করেছি। ভিডিও প্রকাশিত হওয়ায় আমিও লজ্জিত। আমি জোড়হাত করে মাফ চাচ্ছি, আমাকে মাফ করে দিন।
’যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়েত জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন।তিনি বলেন,ইতিমধ্যে হাসপাতালে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেছি ওই নারীর তথ্য জানতে। কারণ, ওই নারী হানি ট্র্যাপের সদস্যও হতে পারেন। সত্যিই ওই নারী ভুক্তভোগী কি না এবং আমার কর্মচারী দোষী কি না, তা তদন্ত না করে বলা সম্ভব নয়।
আর যদি হাসপাতালের ভেতরেও এমন অনৈতিক কাজ আমার কর্মচারী করে থাকে,তবে সেটিও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা ও দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।









