যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর ময়লাখানা বাস্তুহারা কলোনিতে শুকুর আলী (২০) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতের ঘটনা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও সরেজমিনে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে ছুরিকাঘাতের দাবি করা হলেও স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মূলত এ ঘটনার সূত্রপাত।ঝুমঝুমপুর টেকনিক্যাল কলেজের পেছনে এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুকুর আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত।
সম্প্রতি তিনি এক যুবকের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শুকুর আলীকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী নাসির হোসেনসহ এলাকার মুরব্বিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক বসে।
বৈঠকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর (গণধোলাই) করে ছেড়ে দেয়।ঘটনার পর আহত শুকুর আলী যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে চিকিৎসা নেন। অভিযোগ উঠেছে, আইনি ঝামেলা এড়াতে ও আসল ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিনি হাসপাতালে ছুরিকাঘাতের মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন।কলোনী ও বিসিক শিল্পনগরী এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, শুকুর আলীর বিরুদ্ধে এলাকায় নিয়মিত ছিনতাই, মাদক সেবন ও হামিদপুর তেল পাম্প সংলগ্ন নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকদের কাছে মাদক সরবরাহের মতো একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ইতিহাস রয়েছে।
তার এসব অপকর্মের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ ছিলেন এলাকাবাসী।এলাকাবাসীর মতে, স্থানীয়ভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া অনুচিত হলেও শুকুর আলীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণেই এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তারা যেকোনো অপরাধের সঠিক তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।









