1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

অসহায় বাক্‌প্রতিবন্ধী জহরা খাতুনের সিজারে টাকা নিল না কয়রা হাসপাতাল

রিপোর্টারের নামঃ হানিফ মাহমুদ [ বিশেষ প্রতিনিধি ]
  • আপডেট টাইমঃ 05-10-2026 ইং
  • 190 বার পঠিত
ad728

অসহায় বাক্‌প্রতিবন্ধী মায়ের দ্বিতীয় সিজারে কন্যাশিশু; চিকিৎসা-ওষুধের খরচ প্রায় ২০ হাজার টাকা  নিল না কয়রা হাসপাতাল

হাতে এক টাকাও নেই। পাশে শুধু বৃদ্ধা মা। গভীর রাতে জরুরি দ্বিতীয় সিজার—অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এমন সংকটের মধ্যেই অসহায় বাক্‌প্রতিবন্ধী জহরা খাতুনের জরুরি অস্ত্রোপচার করে কন্যাশিশুর জন্ম দিয়েছে কয়রা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। পরে সার্জন ফি ৭ হাজার টাকা, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয়সহ প্রায় ২০ হাজার টাকা না নিয়েই মা ও নবজাতককে বাড়ি ফেরার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

৪৫ বছর বয়সী জহরা খাতুন পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের গড়ইখালী গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে কয়রা উপজেলার হায়াতখালী বাজারের মঠবাড়ী এলাকায় থাকতেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ মাস আগে তার স্বামী হবি গাইন তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর বৃদ্ধা মাকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছিল তার। এর মধ্যে গভীর রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কয়রা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, দ্রুত দ্বিতীয় সিজারিয়ান অপারেশন করতে হবে। কিন্তু অপারেশনের প্রয়োজনীয় অর্থ ছিল না পরিবারের কাছে। পাশে থাকা বৃদ্ধা মায়ের কাছেও ছিল না একটি টাকা। এমন অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। রাতেই সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। জন্ম নেয় একটি কন্যাশিশু। চিকিৎসকদের তৎপরতায় মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ ছিলেন।

অপারেশনের পরও অর্থসংকট কাটেনি। সার্জন ফি বাবদ ৭ হাজার টাকাও দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই অর্থ পরিশোধ করে। পরে চিকিৎসা, ওষুধ ও অন্যান্য সেবার জন্য আরও প্রায় ১৩ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। এ অবস্থায় অসহায় পরিবারটির বিষয়টি জানতে পারেন কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলমগীর হোসেনকে ফোন করে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন।

বিষয়টি জানার পর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোগীর কাছ থেকে আর কোনো টাকা না নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ ছাড়াই মা ও নবজাতককে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফেরার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, অর্থের অভাবে অনেক অসহায় পরিবার চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে একজন দরিদ্র মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে তাকে নিরাপদে বাড়ি পাঠানোর উদ্যোগ মানবিকতার উদাহরণ তৈরি করেছে।“অসহায় রোগীর পাশে দাঁড়ানোই চিকিৎসাসেবার সবচেয়ে বড় মানবিক দিক। এমন সহযোগিতা অন্য প্রতিষ্ঠান ও বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।”

কয়রা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “রোগীর পরিবারের অসহায়ত্বের বিষয়টি জানার পর মানবিক কারণে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। মা ও নবজাতক সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন—এটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

অসহায় পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।তাদের ভাষ্য , অর্থের অভাবে যখন চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সেই সংকট কেটে যায়

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Facebook Video
Facebook Video