ঝিনাইদহ শহরের কোরাপাড়ায় শিখা (২২) নামে এক যুবতীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাতে কোরাপাড়া গ্রামের মুকুল নামে এক ব্যক্তির ঘর থেকে এক সন্তানের জননী শিখার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের অভিযোগ, শিখাকে হত্যার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে।
শিখা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নের শহিদুল ইসলামের মেয়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোরাপাড়া গ্রামের হাকিম মেম্বারের ছেলে ও পেশায় গ্রিলমিস্ত্রি মুকুলের সঙ্গে শিখার পরিচয় ছিল। গত রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে শিখাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন মুকুল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শিখাকে বাড়িতে আনার পর ঘরও সাজানো হয়েছিল। এর দুই দিন পর ওই ঘরের আড়ার সঙ্গে শিখার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়।
প্রতিবেশীদের ভাষ্য, প্রথমদিকে শিখা মুকুলকে মামা পরিচয় দিয়ে তার বাড়িতে ওঠেন। তবে তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই বলে দাবি স্থানীয়দের। ঢাকা থেকে বাসে আসার সময় দুজনের পরিচয় হয় এবং পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শিখাকে মুকুল নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাড়িতে আসার পর বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
শিখার বাবা শহিদুল ইসলাম জানান, মেয়ের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। মাঝেমধ্যে মোবাইল ফোনে কথা হতো। এর আগে শিখার বিয়ে হয়েছিল, তবে প্রথম স্বামীর সংসার করেননি। পরবর্তীতে এক প্রবাসী যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে মেয়ের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয় বলে জানান তিনি।
শহিদুল ইসলামের আশঙ্কা, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
শিখার মামা তরিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর মুকুল দাবি করেন তিনি শিখাকে চেনেন না। অথচ তার ঘর থেকেই শিখার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। শিখার শরীরে থাকা জামাকাপড় ছেঁড়া ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তরিকুল ইসলামের আরও অভিযোগ, পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের সময় মুকুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এসব কারণে শিখাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের সন্দেহ। ঢাকা থেকে আসার পর মুকুল ফোন করে শিখাকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। দুজনের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পরীক্ষা করলে ঘটনার রহস্য ও সম্ভাব্য মোটিভ জানা যেতে পারে বলে মনে করেন তরিকুল।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রোকনুজ্জামান বলেন, ঘরের দরজা ভেঙে শিখার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত শেষ হলে শিখার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।









