‎জমি বিরোধের জেরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, আতঙ্কে পরিবার—তদন্ত ও বিচারের দাবি

‎খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ৭ নম্বর আমিরপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নারানখালী এলাকায় গভীর রাতে লিটন সর্দারের বসতবাড়ির রান্নাঘরে আগুন লাগার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ববিরোধ ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

‎স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী লিটন সর্দার জানান, গত ৪ অক্টোবর (রোববার) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে মুদি দোকান থেকে বাড়ি ফিরে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণ পর চড়চড় শব্দ ও বাতাসের শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে চারদিকে আগুনের আলো দেখতে পান। দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে দেখেন, বসতঘরের পাশের রান্নাঘরে আগুন জ্বলছে।

‎লিটনের দাবি, রান্নার চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়নি; বরং রান্নাঘরের বাইরের বেড়ার পাশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তার ধারণা। এ ঘটনায় পূর্বশত্রুতা ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে।

‎ভুক্তভোগী লিটন সর্দার বলেন, “আমাদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। বিভিন্ন সময় গ্রাম্য ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সালিশ হয়েছে। এমনকি আদালতের রায়ও আমরা পেয়েছি। এরপরও আমাদের জায়গা থেকে উচ্ছেদের জন্য চাপ, গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

‎তিনি আরও বলেন, “আমরা গরিব ও দিনমজুর মানুষ। প্রতিপক্ষরা প্রভাবশালী। রান্নাঘরের আগুন বসতঘরে ছড়িয়ে পড়লে বৈদ্যুতিক সংযোগের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রাণহানির আশঙ্কাও ছিল।”

‎লিটনের অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। সর্বশেষ গভীর রাতে বসতবাড়ির রান্নাঘরে আগুন লাগার ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

‎তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আগুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি; তবে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

‎ঘটনাটি দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।